মানবিক মানুষ গড়তে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা কম্পিলিট এডুকেশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট বা সিফাদ। এই ধারণা নিয়ে কাজ করছেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বোর্ড অব ট্রাস্টি অধ্যাপক মুজিব খান। তার সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন বারেক কায়সার

সিফাদ কনসেপ্ট নিয়ে বলুন—

অধ্যাপক মুজিব খান: এই শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের বয়স, মেধা, মানসিক বিকাশ এবং পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গতি বিশ্লেষণ করে শিক্ষা জীবনকে তিনটি স্থরে ভাগ করা হয়েছে। ১৪ বছর পর্যন্ত সোডা, ১৮ বছর পর্যন্ত কোডা এবং ২৫ বছর পর্যন্ত ইউডা- এই তিন স্থরে বিভক্ত তিনটি শিক্ষা পর্যায় পরস্পর সম্পর্কিত। এই তিনটি পর্যায় ধারাবাহিকভাবে শেষ করে একটি শিশু শত ভাগ সামাজিক ও একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারবে। সামাজিক, নৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক শিক্ষার সঙ্গে পুঁথিগত শিক্ষার সমন্বিত রুপকেই আমরা বলছি সিফাদ।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জানতে চাই—

অধ্যাপক মুজিব খান: সিফাদ হচ্ছে বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সামাজিক রুপান্তরের একটি ধারণা। এটি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে গড়ে তোলা যাবে আলোকিত ও বিবেকবান একদল মানুষ। এরাই হতে পারে একটি সুখী ও কল্যাণময় বিশ্বের প্রতিষ্ঠাতা। এ কাজটি করার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান ও গুণে সমৃদ্ধ ভালো মানের শিক্ষক। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধারণাকেই আমরা সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। কারণ উচ্চ মানসম্পন্ন ভালোমানের শিক্ষকই তৈরি করতে পারে সৃষ্টিশীল কর্মমুখর ও আত্মপ্রত্যয়ী দেশ প্রেমিক আদর্শবান সুনাগরিক। সেই জন্য আমরা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে খুবই যত্নবান থাকি। শিক্ষক হিসেবে মেধাবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি ডেমো ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকদেরই বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পরে তাদের ছয় মাস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ইউডাতে সব সময়ই ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।

শিক্ষার নামে অনেক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য করছে। এটা নিয়ে বলুন—

অধ্যাপক মুজিব খান: শিক্ষা কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়। এই কাজটি কেবলই মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়ার কথা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তাদের বেশির ভাগই বাড়তি টাকা আয়ের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও কেউ কেউ এর বিপরীতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করছেন। সিফাদ তথা সোডা, কোডা এবং ইউডা মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা। স্বল্প খরচে উচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করে তাদের দেশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ভালো মানুষ গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করি বাংলাদেশ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা, ১৯৯৩ সালে কোডা এবং ১৯৯৫ সালে সোডা প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা করি ইউডা। মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান আজও কাজ করে যাচ্ছে।

দেশে আরো নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিচ্ছে, কতটা প্রয়োজনীয়—

অধ্যাপক মুজিব খান: দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন আছে। না হয় এতো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করবে কোথায়? কিন্তু সেই বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় যা উচ্চ মানের শিক্ষা প্রদানের জন্য সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও আর্থিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি না দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির দেওয়া শর্তগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করা উচিত্ বলে মনে করি।

একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় হতে যে সব শর্ত অবশ্যই থাকতে হবে—

অধ্যাপক মুজিব খান: প্রথমত হচ্ছে জ্ঞান ও গুণে সমৃদ্ধ ভালোমানের আদর্শবান শিক্ষক, দ্বিতীয়ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা কারিকুলাম। এ ছাড়াও ভালো রিসোর্স থাকতে হবে। পরে অন্যান্য বিষয় যেমন স্থায়ী ক্যাম্পাস, ল্যাব, লাইব্রেরি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, গবেষণা, ইনোভেশন সেন্টার থাকতে হবে। ভালো শিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষা কারিকুলামের দিকে সর্বাগ্রে জোর দিতে হবে।

বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিৎ—

অধ্যাপক মুজিব খান: শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়া উচিৎ ক্যারিয়ার নির্ভর। জব রিলেটেড। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো সৃষ্টিশীল ও কর্মমুখর মানবসম্পদ বানানোর কারখানা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত্ যাতে একজন শিক্ষার্থী তার আগামীদিনের কর্ম জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে এবং দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার স্ফুরণ ঘটাতে পারে। এই ভূমিকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় অবতীর্ণ হতে না পারলে সেখানে পড়াশোনা করে কী লাভ বলুন! আমরা আাামদের সন্তানদের বিশ্বমানের কর্মজীবী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছি।

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা—

অধ্যাপক মুজিব খান: দেশের প্রায় ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিচ্ছে। দেখেন বাংলাদেশে শিক্ষার্থীর পরিমাণ অনেক বেড়েছে এবং ডিগ্রী প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিদেশে সুনামের সঙ্গে কর্ম জীবনকে সমৃদ্ধ যেমন করছে তেমনি উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যেমন- ইউডার লাইফ সায়েন্স অনুষদের ৩০ জন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে। যাদের দুইজন বর্তমানে আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ পেয়ে সেখানে কাজ করছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসরণে উদাসীনতা—

অধ্যাপক মুজিব খান: দেশে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট ভূমিকা ও কর্মতত্পরতা লক্ষ্য করা গেলেও অন্যান্য বিষয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যেমন সরকারের ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা থাকে তেমনি যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসরণে উদাসীন হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখতে হবে। এ ছাড়া যারা শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করবে তাদের কঠোর হস্তে দমন করে শিক্ষা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসরণে সবাই সজাগ ও সতর্ক হবে বলে আমি মনে করি।

ছবি: শাহরুখ মো. রশীদ
All of the VPNs on this list have refund best vpn for gamers periods..